শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে পৈতৃক বসতভিটা ও উর্বর কৃষিজমিতে জোরপূর্বক বালু ভরাটের অভিযোগে রূপগঞ্জ থানায় গণঅভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থানার সামনে মানববন্ধনও করেন তারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রূপগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে কায়েতপাড়ার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক, জমির মালিক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাঝিনা এলাকার জমির মালিক রফিকুল ইসলাম, মাঝিনা নদীরপাড় এলাকার ইলিয়াস পারভেজ, ইছাখালীর অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার ও পশ্চিম গাও এলাকার বাসিন্দা হাসনা বেগমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার ৪২টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার একর কৃষিজমি ও বসতভিটা আবাসন প্রকল্পের নামে জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বালু ভরাট করছে। এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তারা।
তাদের দাবি, কায়েতপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমি ও পৈতৃক ভিটায় বালু ফেলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের বসতভিটাও হুমকির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ, ড্রেজারের পাইপ অপসারণ এবং জড়িত ভূমিদস্যু চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কায়েতপাড়ার উর্বর কৃষিজমিই এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছে কৃষকের রক্ত-ঘামে অর্জিত ভিটা-মাটি সমর্পণ করা হবে না। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, “প্রায় ৫০ জন কৃষক ও জমির মালিকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”